ads
ইপেপার আর্কাইভ
logo

সবার উপরে মানুষ সত্য

আব্দুল্লাহ আল মামুন

প্রকাশকাল: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৫:২২ পি.এম
সবার উপরে মানুষ সত্য

ইরানের শিয়ারাও মানুষ—মানুষতত্ত্ব বাদ দিয়ে অন্য তত্ত্ব মানার কারণেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো নানা অজুহাতে মানুষ মারে। আর যারা দুর্বল, তারা যখন শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তখন তারাও আবার মানুষ মারে। ধর্ম এখানে কোনো ইস্যু নয়।


ইরানের শিয়ারা শিয়া, আরবের সুন্নিরা সুন্নি। মুসলিম হওয়া না হওয়া তো এখানে প্রশ্নই আসার কথা নয়। হিন্দু, বৌদ্ধ হলেই কি! আর নাস্তিক হলেই বা কী! মানুষ না হয়ে পশু হলেই বা কী! প্রাণ তো প্রাণ। তাছাড়া প্রাণ নেই—এমন বস্তুর প্রতিও তো মানুষের ভালোবাসা আছে, আবেগ আছে, মায়া আছে। আর ইসলাম তো মানুষের শান্তির জন্য। আল্লাহর রাসুল (সা.) তো শুধু মুসলিমদের শান্তির জন্য আসেননি। সমগ্র মাখলুকাত, তথা পশু-পাখি, নদী-নালা, পাহাড়-সমুদ্রের জন্যও রহমত। তিনি তো রহমাতাল্লিল আলামিন। ইরানের কুকুর-বিড়াল, পাখিও ইসলামের বার্তানুযায়ী শান্তি পাওয়ার অধিকার রাখে। গাজার শিশুরা যেমন নিষ্পাপ, ইসরাইলের শিশুরাও, ইয়েমেনের শিশুরাও তেমনই নিষ্পাপ।


মানুষতত্ত্ব বাদ দিয়ে এসব যতদিন থাকবে, ততদিন যুদ্ধ থামবে না। ঘৃণা থামবে না। একদল বলে—আল্লাহ নাকি শয়তান দিয়ে শয়তান মারছে। অথচ আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি—মানুষ হয়ে মানুষকেই মারছে। অথচ তারা নাকি মানুষই দেখে না, সব নাকি শয়তান।


আসলে যুদ্ধের তো কোনো প্রয়োজনই ছিল না—শুধু হিংসা, ক্ষমতার লোভ আর স্বার্থপরতার জন্যই যুদ্ধ। মজলুম সুযোগ পেলেই জালেম হয়ে ওঠে। যুদ্ধ কীভাবে থামবে?


ইরান-গাজা নিয়ে আছি আমরা। অথচ দেশের মধ্যে কী পরিমাণ হত্যা, জুলুম, ধর্ষণ, দারিদ্র্য, সাম্রাজ্যবাদ—সেদিকে ভাবি না। ব্যক্তিগতভাবে আমরা কতটা সাম্রাজ্যবাদী, তা একবারও ভাবি না। নিজের নফসের বিরুদ্ধে কি একবারও যুদ্ধ ঘোষণা করেছি?


মানুষ এমন এক নেশায় মত্ত, যা মানুষের ক্ষতি ছাড়া বিন্দুমাত্র উপকার আনে না। অস্ত্র বানাতে পারলেই তারা সেরা। অথচ আমরা মানুষ! ভাবা যায়!

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ